স্কাউটিং বিশ্বব্যাপী একটি যুব সংস্থা। এর লক্ষ্য যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, যাতে করে তারা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। স্কাউট আন্দোলন ১৯০৭ সালে লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল শুরু করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত ল্যাফটেনেন্ট জেনারেল।

স্কাউটিং-এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশু, কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক গুণাবলী উন্নয়নের মাধ্যমে তাদেরকে পরিবার, সমাজ, দেশ তথা বিশ্বের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। স্কাউট কার্যক্রমে কতগুলি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়। হাতেকলমে কাজশেখা; ছোট-দল পদ্ধতিতে কাজ করা; ব্যাজ পদ্ধতির মাধ্যমে কাজের স্বীকৃতি প্রদান; মুক্তাঙ্গনে কাজ সম্পাদন, তিন আঙ্গুলে সালাম ও ডান হাত করমর্দন, স্কাউট পোশাক, স্কার্ফ ও ব্যাজ পরিধান এবং সর্বদা স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা মেনে চলা। স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েলের নির্দেশিত নিয়ম অনুসারে অনুশীলন, প্রতিজ্ঞাপাঠ ও দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলনের সদস্য হতে হয়। স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কর্তৃক নির্ধারিত উদ্দেশ্য, মূল নীতি ও পদ্ধতিতে পরিচালিত শিশু, কিশোর ও যুবকদের জন্য স্কাউটিং একটি স্বেচছাসেবী, অরাজনৈতিক ও শিক্ষামূলক আন্দোলন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে স্কাউটিং সকলের জন্য উন্মুক্ত।
স্কাউট আন্দোলনের উদ্দেশ্য
স্কাউট আন্দোলনের উদ্দেশ্য হল ছেলে মেয়েদের শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক আধ্যাত্মিক ও মানসিক দিকগুলো পরিপূর্ণ অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বিকাশে অবদান রাখা যাতে করে তারা ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তি, দায়িত্বশীল নাগরিক এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদস্য হিসাবে জীবনযাপন করতে পারে।
স্কাউট আন্দোলনের মূলনীতি
স্কাউট আন্দোলন নিম্নবর্ণিত তিনটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত (প্রতিজ্ঞা ও আইনের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে)-
১। স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য পালন (আধ্যাত্মিক দিক)।
২। নিজের প্রতি কর্তব্য পালন (ব্যক্তিগত দিক)।
৩। অপরের প্রতি কর্তব্য পালন (সামাজিক দিক)।
স্কাউট পদ্ধতি
স্কাউট পদ্ধতি একটি ধারাবাহিক স্ব-শিক্ষামূলক প্রক্রিয়া, যার উপাদান গুলো হচ্ছেঃ
১। প্রতিজ্ঞা ও আইনের চর্চা এবং তার প্রতিফলন
২। হাতে-কলমে শিক্ষা
৩। ছোট ছোট দলের সদস্য হিসেবে কাজ করা (যেমন- ষষ্ঠক/উপদল পদ্ধতি)
৪। ক্রমোন্নতিশীল ও উদ্দীপনামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম (ব্যাজ পদ্ধতি)
৫। বয়স্ক নেতার সহায়তা
৬। প্রকৃতি
৭। প্রতিকী কাঠামো
৮। কমিউনিটি ইনভলমেন্ট
সকল ধরণের স্কাউট কার্যক্রম ও প্রোগ্রাম স্কাউট পদ্ধতিতে বাসত্মবায়ণ করতে হয় যাতে করে স্কাউট আন্দোলনের উদ্দেশ্য অর্জিত হতে পারে। স্কাউটদের জন্য যে সকল কাজ স্কাউট পদ্ধতিতে করা হয় না, তা স্কাউট প্রোগ্রাম বা কার্যক্রম বলে বিবেচনা করা যায় না। স্কাউটিং শিশু কিশোর, যুব বয়সীদের লেখা পড়ার অবসরে বয়স উপযোগী আনন্দদায়ক কার্যাবলীর মাধ্যমেস উপস্থাপিত শিক্ষা সম্পূরক কার্যক্রম। এই বয়সীদের প্রধান ও প্রথম কাজ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য এবং স্কাউট আন্দোলনের লক্ষ্য এক হলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তারা এই লক্ষ্য অর্জনের বাস্তব অনুশীলনের সুযোগ পায় না। অপরদিকে স্কাউটরা মুক্তাঙ্গনে হাতে-কলমে কাজে অংশ গ্রহণ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা ব্যক্তি জীবনে অনুশীলনের মাধ্যমে আত্মস্ত করার সুযোগ লাভ করে।
স্কাউট আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য
স্কাউটি আন্দোলন তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে সারা বিশ্বে আজও সমাদৃত। স্কাউটিংয়ের বৈশিষ্ট্যের কতগুলো দিক হচ্ছে-
১। স্কাউটরা স্কাউট প্রতিজ্ঞা নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেয় এবং তার জীবনে প্রতিজ্ঞা মেনে চলার চেষ্টা করে।
২। স্কাউটরা সাফল্য বা বিফলতার কথা না ভেবে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
৩। স্কাউটরা সকল কাজ হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শেখে।
৪। স্কাউটরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে কাজ করে ও শেখে। একে উপদল পদ্ধতি বলে।
৫। স্কাউটদের কাজের স্বীকৃতি ব্যাজের মাধ্যমে দেয়া হয়। একে ব্যাজ পদ্ধতি বলে। নিজ নিজ বিষয় নির্বাচন করে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা অর্জনে সফল হলে ব্যাজ প্রদান করা হয়।
৬। স্কাউটরা নির্ধারিত পোশাক, স্কাউট ব্যাজ ও স্কার্ফ প্রদান করে।
৭। স্কাউটরা নির্ধারিত তিন আঙ্গুলের বিশেষ কায়দায় সালাম দেয় ও গ্রহণ করে।
৮। স্কাউটরা ডান হাতে পরস্পরে করমর্দন করে।
৯। স্কাউটরা নিজস্ব কায়দায় তাদের অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে - যেমন ক্যাম্পুরী, জাম্বুরী, মুট, ক্যাম্পফায়ার, স্কাউটস ওন, ক্রু মিটিং/ট্রুপ মিটিং/ প্যাক মিটিং ইত্যাদি।