বিশ্ব স্কাউটিং ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব

প্রথমদিকে বিশ্বজুড়ে বালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে স্কাউটিং আন্দোলনের সূচনা হয়নি। কিন্তু স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন-পাওয়েল অব গিলওয়েল (সংক্ষেপে বি.পি.)-এর চিন্তাধারা, আদর্শ ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি খুব দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৃহীত ও প্রয়োগ হতে থাকে। বিভিন্ন দেশ উপলব্ধি করতে শুরু করে যে, শিশু-কিশোরদের কাছে স্কাউটিং যে আকর্ষণ ও আবেদন সৃষ্টি করতে সক্ষম, অন্য কোনো প্রশিক্ষণ পদ্ধতি তা সহজে করতে পারে না।

এভাবেই স্কাউটিং ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করেছে। স্কাউট আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—দেশ, জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা ভুলে সবাইকে এক বৃহৎ বিশ্ব স্কাউট ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করা।

বিশ্ব স্কাউট ভ্রাতৃত্বের বিকাশ

বিশ্ব স্কাউট ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলার প্রথম ধাপ হলো ষষ্ঠক/উপদল। একজন নবাগত কাব, স্কাউট বা রোভার দলে যোগদানের পর প্রথমে তার নিজ ষষ্ঠক বা উপদলের সদস্যদের সঙ্গে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

পরবর্তীতে এই ভ্রাতৃত্বের পরিধি ষষ্ঠক বা উপদলের গণ্ডি অতিক্রম করে দল ও গ্রুপের সকল সদস্যের মধ্যে বিস্তৃত হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে থানা/উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কাব, স্কাউট ও রোভারদের মধ্যে। ক্রমান্বয়ে এই ভ্রাতৃত্বের পরিধি আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত হয়।

বিশ্বভ্রাতৃত্বের অনুভূতি আরও দৃঢ় করার উপায়

ইউনিট বা গ্রুপের তাঁবু বাস, থানা/উপজেলা ও জেলা স্কাউটস কর্তৃক আয়োজিত স্কাউট সমাবেশ এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন স্কাউটের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও গভীর হয়।

এছাড়া আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্যাম্পুরি, সমাবেশ, রোভার মুট, জাম্বুরি, ইয়ুথ ফোরামসহ বিভিন্ন স্কাউট কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির স্কাউটদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর ফলে একজন স্কাউটের মনে বিশ্বভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও শান্তির চেতনা আরও সুদৃঢ় হয়।

মূল শিক্ষা

“একজন স্কাউট শুধু তার দলের সদস্য নয়; সে বৃহত্তর বিশ্ব স্কাউট ভ্রাতৃত্বেরও একজন সদস্য।”

এই বিশ্বভ্রাতৃত্বের চেতনা স্কাউটদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও বিশ্বশান্তির আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে এবং তাদেরকে একজন দায়িত্বশীল বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।